
বাংলাদেশে প্রত্যন্ত গ্রামেও একজন সংখ্যালঘু হিন্দু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদিকে জীবনের নিরাপত্তার একজন রক্ষক মনে করেন।তাদের ধারণা শত বিপদে নরেন্দ্র মোদী তাদের উদ্ধার করবেন।
গতকাল নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে শরৎ মনি চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার সময় জিহাদিরা বলেছিলো বাংলাদেশে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে।তোর ভারত বা তোদের বাবা নরেন্দ্র মোদী এলেও জিজিয়া আদায় করা আটকাতে পারবেনা।
নরেন্দ্র মোদির প্রতি বাংলাদেশের হিন্দুদের এই আস্থার জন্যই অনেকাংশে হিন্দুদের হত্যা ধর্ষন অত্যাচার অবিচার এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হচ্ছে।অথচ দিল্লি বসে নরেন্দ্র মোদী সুদূর চরসিন্দুরের এই হতভাগা শরত চক্রবর্তী আকুতির কিছুই জানতে পারলো না।নরেন্দ্র মোদী নামের উপর এই যে অগাধ বিশ্বাস আস্থা তার কি প্রতিফলন বাংলাদেশের নিপীড়িত হিন্দুরা পাবে? গত ১৮দিনে এমনি ভাবে ৬জন হিন্দুকে দুস্কৃতিকারিদের হাতে প্রান দিতে হয়েছে।
শরত চক্রবর্তী দঃকোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন।দেশে ফিরে তিনি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছিলেন।কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।গত ১৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন,’চারিদিকে এত আগুন এত হিংসা আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিনত হয়েছে’।জন্মভূমির প্রতি মমত্ববোধের প্রতিদান তাকে জীবন বিসর্জন দিয়ে দিতে হলো।এ জন্মভূমি যে আর রবীন্দ্র-নজরুলের শ্বাশত জন্মভূমি নেই সে কথাটা শরত বাবু আর বুঝে উঠতে পারেননি।
বিদেশ থেকে দেশে ফিরার পরই শরত চক্রবর্তীর কাছে জিজিয়া কর বাবত মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল।জিজিয়া কর হলো একটি ইসলামি বিধান।ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায়ের একটি প্রথার কথা ইসলামি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে।অমুসলিমদের জীবন সম্পত্তি রক্ষা এবং ধর্মাচারনের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই কর প্রথা প্রচলিত ছিল।
বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃত।কিন্তু এই ধর্মনিরপেক্ষতা যে ভারতের হিন্দুধর্মের একটি বিধান বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে এতদিন বাংলাদেশকে ভারতের একটি উপনিবেশ বানিয়ে রাখা হয়েছিল তা থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে ২৪এ ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে।বাংলাদেশ এখন একটি ইসলামি রাজত্বে পরিনত হয়েছে।তাই জিহাদিরা শরত বাবুর কাছে জিজিয়া কর বাবত মোটা টাকা চেয়েছিল।পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরনের হুমকি দিয়েছিল।জিহাদিরা বলেছিলো চুপচাপ টাকা দিয়ে দিতে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবন দিয়ে শরৎ চক্রবর্তীকে জিজিয়া কর পরিশোধ করতে হলো।