ভারতের ‘পা’ চাটার প্রতিযোগিতায় জামাতে ইসলামিও পিছিয়ে নেই। – নারায়ণ দেবনাথ

ছবি: ডাঃ শফিকুর রহমান।

ভারতের ‘পা’ চাটার কাজে জামাতে ইসলামিও যে পিছিয়ে নেই জামাতের আমির সেকথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন।খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় আসলে কোন রাজনৈতিক দল ভারতের সবচেয়ে কাছের বিএনপি না জামাতে ইসলামি বা কে কতদিন ধরে গোপনে ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল তার প্রতিযোগিতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের এমন কোন রাজনৈতিক দল নেই যারা ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেনি।দোষ শুধু আওয়ামী লীগের।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই চরম তথ্যটি জনসমক্ষে আসছে যা ভারতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।কারণ বাংলাদেশের মানুষ যত তাড়াতাড়ি এই সত্যটি উপলব্ধি করতে পারবে তত ভারত বিদ্বেষ কমে আসবে এবং দুইদেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি হবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় অবস্থান কালেই জামাতের আমির রয়টার্সের সাথে সাক্ষাৎকারে যে ভারতের কূটনীতিকের সাথে তাদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো তা প্রকাশ করে দেন।যেন ভারতের সাথে যোগসাজশে তারাও পিছিয়ে নেই তার প্রতিযোগিতা চলছিল।

কিন্তু যারা এতদিন” দিল্লি না ঢাকা / ঢাকা- ঢাকা শ্লোগান দিয়ে আদিপত্যবাদী ভারতের সাথে কোন সম্পর্ক নয় বলে গলা ফাটিয়েছিলেন তারা এখন বলছেন ভারত শুধু হিন্দুদের নয় আমাদেরও মামার বাড়ি।ভারতের ‘পা’ চাটার এই যে প্রতিযোগিতা তা এখন আর গোপন ব্যাপার নয়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের নীরব কূটনীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশের মানুষ এবার বুঝে দেখুক।জামাতে ইসলামের মতো কট্টর ভারত বিদ্বেষী রাজনৈতিক দল যখন ভারতের সাথে গোপনে বৈঠক করে তাদের পায়ের নীচে ঠাঁই দেয়ার জন্য লুটিয়ে পড়তে হয় তখন আর বুঝতে বাকি থাকেনা ভারতের দালালি করা ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা।

বাংলাদেশের যুব নেতারা সেভেন সিস্টার্স দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছে ত্রিপুরা আসাম ও বিহার নিয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে আর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের বিমান বাহিনীর একটি বিমান নিয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে বাংলাদেশের ‘বাশার’ বিমানঘাটিতে সরকারের প্রটোকল ভেঙ্গে বিনা ইমিগ্রেশনে খালেদা জিয়ার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে আবার নির্বিঘ্নে চলে গিয়েছেন।বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন।এটাই নুতন ভারত।

খেলা এখনো অনেক বাকি।ভারত বিদ্বেষকে পুঁজি করে যারা সতী সেজে রাজনীতি করতে চায় তাদের মুখোশ উন্মোচন শুধু সময়ের ব্যাপার।

লিখেছেন –
নারায়ণ দেবনাথ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *