
গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে রোড জিহাদ, হত্যা এবং রহস্যজনক ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় গত ডিসেম্বর মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক বসত ঘরে গভীর রাতে বাইরে থেকে তালা দিয়ে বা লক করে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে ঘরের ভেতর হিন্দুদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে হিন্দুরা ঘরের টিন কেটে বাইরে বের হয়ে প্রাণে বাঁচে। দেখা যায় গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে লোক কে হত্যা করা হয়েছে। যার বিবরণ সংক্ষেপে নিম্নে দেওয়া হলো –
গত ১লা ডিসেম্বর সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ভোলাহাট সদর থেকে মোটরসাইকেলে গোমস্তাপুর যাওয়ার পথে গোহালবাড়ি ইউনিয়নের ছাইতনতলা নামক এলাকায় পেছন থেকে ঢাকাগামী বাসচাপায় মিঠুন কুমার দাস (৪২) মারা যায়। নিহত মিঠুন কুমার দাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের রতন কুমার দাসের ছেলে। তিনি শিবগঞ্জের রানীহাটী ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
১লা ডিসেম্বর সোমবার ঝিনাইদহ জেলা সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আদিবাসী বিষ্ণু বিশ্বাসের ছেলে সুফল বিশ্বাস (৩৫) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে হরিপুর গ্রামের মো. আজিবরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী।
৩ ডিসেম্বর বুধবার নরসিংদী জেলা রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দিঘলিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্বর্ণকার প্রান্তোষ সরকার (৪২) কে গুলি করে হত্যা করেছে। নিহত প্রান্তোষ সরকার ওই এলাকার সাধন সরকারের ছেলে। প্রান্তোষের ভাবি হেনা রাণী জানান, সন্ধ্যায় দুই অপরিচিত ব্যক্তি প্রান্তোষের খোঁজে তার বাড়ির পাশে আসে। পরে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫ ডিসেম্বর শুক্রবার ফরিদপুর জেলা সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া গ্রামের কালীতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকার (৩৮) কে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে মো. রাজন মোল্যা গং। নিহত উৎপল সরকার ফরিদপুর জেলা সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রনকাইল গ্রামের অজয় কুমার সরকারের ছেলে। মো. রাজন মোল্যা ফরিদপুর জেলা সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিন মোল্যার ছেলে।
৬ ডিসেম্বর শনিবার কুড়িগ্রাম জেলা সদরের ভোকেশনাল মোড় এলাকার অর্ণব ছাত্রাবাস থেকে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায়ের (২১) মরদেহ উদ্ধার। নিহত মৃত্যুঞ্জয় রায় (২১) কুড়িগ্রাম পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানা এলাকায়। তার বাবার নাম সংকর চন্দ্র রায়।
৬ ডিসেম্বর শনিবার গোপালগঞ্জ জেলার শহরতলির ঘোষেরচর উত্তরপাড়া এলাকার একটি বাগান থেকে মুখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় আবির সাহা (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত আবির সাহা শহরের সাহাপাড়া এলাকার গৌর সাহার ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন। মরদেহের হাত ও মুখ বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সপ্তাহখানেক আগে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
৭ ডিসেম্বর রবিবার হবিগঞ্জ জেলা বাহুবল উপজেলার নতুনবাজার এলাকার বেন্দারপুল এলাকায় ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে স্কুলশিক্ষক রূপজিত কর রাজু (৩৬) কে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। একই ঘটনায় আহত হয় সুরঞ্জন দেব। নিহত রূপজিত কর রাজু হবিগঞ্জ জেলা বাহুবল উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের নিপেশ করের ছেলে।
৭ ডিসেম্বর রবিবার রংপুর জেলা তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭০) ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে (৬২) হত্যা করে মো. মোরসালিন (২২)। মোরসালিন স্থানীয় তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। ঘটনার দিন দুপুরে প্রথমে সুবর্ণা রায়কে কুপিয়ে হত্যা করেন মোরসালিন। পরে ঘরে থাকা মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়কে একই কায়দায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাড়ি থেকে কয়েকটি সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় এবং আলমপুর এলাকায় আত্মগোপন করে।
১০ ডিসেম্বর বুধবার বান্দরবান জেলা রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের ময়ূরপাড়া এলাকার জঙ্গল থেকে আদিবাসী লালরাম সাং বমের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে তাঁকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। লাশে পচন ধরেছে। স্থানীয় বম জনগোষ্ঠীর লোকজন লাশটি লালরাম সাং বমের বলে শনাক্ত করেন। তাঁর বাড়ি রেমাক্রিপ্রাংসা ইউনিয়নের কেওক্রাডং পাহাড় পেরিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা চুংসংপাড়ায়। চুংসংপাড়া থেকে ময়ূরপাড়ার দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। স্থানীয় লোকজন জানান, লালরাম সাং বম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। বান্দরবানের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, লাশের মাথা ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
১০ ডিসেম্বর বুধবার গোপালগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার পাথালিয়া দোলা পাম্পের সামনে কাভার্ডভ্যান চাপায় মোটরসাইকেল চালক পলাশ মজুমদার (৩২) মারা যায়। নিহত পলাশ মজুমদার (৩২) পিরোজপুর জেলার গোবরধন গ্রামের প্রদীপ মজুমদারের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ার একটি মার্কেটে গার্মেন্টেসের ব্যবসা করতেন। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই রোমান মোল্লা বলেন, ঘোনাপাড়া থেকে ছেড়ে আসা একটি কাভার্ডভ্যান ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।এতে মোটরসাইকেল চালক পলাশ মজুমদার মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তিনি সেখানে মারা যান।
১০ ডিসেম্বর বুধবার মাদারীপুর জেলা রাজৈর উপজেলার কালীবাড়ি এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিপ্লব সরকার (৩০) ও পলাশ গাইন (৪০) মারা যায়। রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম গ্রামের বিকাশ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার (৩০) ও তাঁর বন্ধু একই গ্রামের নিত্যানন্দ গাইনের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পলাশ গাইন (৪০)। প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পলাশ গাইনসহ তিনজন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার কালীবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান ওই ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পলাশ ও তাঁর বন্ধু বিপ্লব মারা যান। আহত একজনকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা মোল্লাহাট উপজেলার মধুমতি নদীর আবুল খায়ের সেতুর মুখে কাভার্ডভ্যানের চাপায় মারা যায় ইটভাটা শ্রমিক ঠাকুর (৫৫)। নিহত ঠাকুরের বাড়ি মোল্লাহাট উপজেলার গিরিশনগর গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো ভোরে বাইসাইকেল ঠেলে কর্মস্থলের উদ্দেশে সেতুতে উঠছিলেন ঠাকুর। ঠিক সে সময় গোপালগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ নিজের লেন ছেড়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়ে ঠাকুরকে চাপা দেয়। এরপর দ্রুতগতিতে খুলনার দিকে পালিয়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই ঠাকুরের মৃত্যু হয়।
১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড লক্ষিপাশা গ্রামের মোল্লার বাজার সংলগ্ন মরন শাহের বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ঘরের মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। ঘটনার সময় পরিবারের তিন সদস্য স্প্রের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঞ্জলী রাণী শাহা (৯০) মারা যায়। এছাড়াও গুরুতর অবস্থায় মরণ শাহ (৫০) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী দাস(৪৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানায় মরণ শাহের স্ত্রী সন্ধ্যা রানীর অবস্থা অনেকাটা ভালো তবে মরন শাহা বেশি অসুস্থ ও অজ্ঞান থাকায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
১২ ডিসেম্বর শুক্রবার কুমিল্লা জেলা হোমনা উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের গ্রাম পুলিশ অরুণ চন্দ্র দাসের ছেলে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশাচালক শান্ত চন্দ্র দাসকে (১৮) জবাই করে হত্যা করেছে।
১৩ ডিসেম্বর শনিবার ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার গাজির বাজার এলাকার একটি আম গাছের নিচু ডাল থেকে প্রতাপ কুমারের(২৫) রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত প্রতাপ কুমার স্থানীয় গাজির বাজার কালাপাড়া গ্রামের প্রেম কুমারের ছেলে। প্রতাপ কুমারের গলায় ফাঁস দেওয়া থাকলেও তার পা দুটি মাটিতে স্পর্শ করছিল। আম গাছটির ডালও ছিল তুলনামূলকভাবে নিচু। এই অস্বাভাবিক দৃশ্যের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
১৪ ডিসেম্বর রবিবার চট্টগ্রাম জেলা সন্দ্বীপ উপজেলার উত্তর মগধরা গ্রামের বাসিন্দা নয়ন চন্দ্র মজুমদারকে(২৮) হানি ট্র্যাপে ফেলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ফারজানা আক্তার মিথিলা এবং তার স্বামী ফয়সাল। নয়ন নরসিংদী জেলা পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এবং পাশের ঘাগড়া গ্রামে নিজের একটি সেলুনে কাজ করতেন। অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মিথিলা (২৪) নরসিংদী জেলা পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ মিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহেল মিয়ার মেয়ে।
১৪ ডিসেম্বর রবিবার কুড়িগ্রাম জেলা রাজারহাট উপজেলার আকিজ সিগারেট কম্পানির অফিসে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরী তপন কুমার সরকার (৫০)কে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত নৈশপ্রহরীর তপন কুমার সরকারের (৫০) বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া এলাকায়।
১৪ ডিসেম্বর রবিবার পিরোজপুর জেলা নাজিরপুর উপজেলার ৫ নম্বর শাখারীকাঠী ইউনিয়নের ডাকাতিয়া এলাকায় বাস চাপায় টমটম চালক রতন মজুমদার(৫০) মারা যায়। নিহত রতন মজুমদার(৫০) পিরোজপুর জেলা সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের মৃত রবিন্দ্র মজুমদারের ছেলে। সন্ধ্যায়র সময় রতন ও তার সঙ্গে থাকা একজন টমটমে করে মাটিভাংগা থেকে নাজিরপুরে দিকে আসছিলেন। এসময় ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় রতনের মাথায় আঘাত লাগে। রতন ঘটনাস্থলে মারা যান।
১৫ ডিসেম্বর সোমবার মৌলভীবাজার জেলা কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মৃত্তিঙ্গা চা বাগানে স্বাধীন পাল (২০) কে ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাহিন আহমেদ।
১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বগুড়া জেলা সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউপি’র পশ্চিম তেকানী গ্ৰামের শ্রীকান্ত সরকার এর ছেলে পলাশ চন্দ্র সরকার (৩০) কে পিটিয়ে হত্যা করে পাভেল মিয়া ও মোঃ রুবেল মিয়া গং।
১৭ ডিসেম্বর বুধবার দিনাজপুর জেলা বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ সড়কের কোমরপুর বটতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তারিনী বর্মন (৪০) নামে মোটরসাইকেল আরোহী ও তার স্ত্রী ইতি বর্মন (৩৫) নিহত হয়েছেন। নিহত তারিনী বর্মন (৪০) একই উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের রুহিলা গ্রামের জিতেন্দ্র বর্মনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, আজ সকালে নিজবাড়ি হতে মোটরসাইকেলযোগে স্বামী-স্ত্রী উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বিপরীতগামী ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তারিনী বর্মন নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী ইতি বর্মন গুরুত্বর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলা ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার সামনে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাস কে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় মুসলিমরা। নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। ভালুকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক ছিলেন।
২০ ডিসেম্বর শনিবার চট্টগ্রাম জেলা মিরসরাই উপজেলার কমলদহ এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় ভ্যানচালক দীপন চন্দ্র নাথ (৪২) মারা যায়। দীপন চন্দ্র নাথ (৪২) একই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দীপন একটি গোডাউন থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ভ্যানে করে কমলদহ এলাকা থেকে বড় দারোগার হাটের দিকে যাচ্ছিলেন। কমলদহ এলাকায় মহাসড়কে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁর রিকশাভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২১ ডিসেম্বর রবিবার রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি আড়তের সামনে ব্যবসায়ী আশীষ জোয়াদ্দার (৩৩) কে ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত আশীষ জোয়াদ্দার মাগুরা জেলা সদর উপজেলার পাতুরিয়া গ্রামের অমল জোয়াদ্দারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে দু–তিনজন আশীষ জোয়াদ্দারের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পথচারীরা আশীষকে উদ্ধার করে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার রাজধানী ঢাকার ধামরাই উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে সন্ধ্যা রানী পালের (৬৫) মরদেহ উদ্ধার। সন্ধ্যা রানী পাল (৬৫) ধামরাই পৌরসভার বড়বাজার এলাকার প্রয়াত নিপেন্দ্র পালের মেয়ে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার সিরাজগঞ্জ জেলা রায়গঞ্জ উপজেলার তাড়াশগামী সড়কের কদমতলী ব্রিজ এলাকায় ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী আকাশ মাহাতো (১৬) মারা যায়। নিহত আকাশ মাহাতো একই উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের গোতিথা গ্রামের চঞ্চল চন্দ্র মাহাতোর ছেলে। বুধবার সন্ধ্যায় কিশোর আকাশ মাহাতো মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে দোস্তপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে গোতিথা কদমতলী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
২৪ ডিসেম্বর বুধবার রাজবাড়ী জেলা পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট (৩০) কে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় মুসলিমরা।
নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট (৩০) একই গ্রামের অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে।
২৮ ডিসেম্বর রবিবার খুলনা জেলা ডুমুরিয়ায় উপজেলার আঠারো মাইল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দেবাশীষ চক্রবর্তী (৩৫) মারা যায়। নিহত দেবাশীষ চক্রবর্তী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলার মধুসূদন চক্রবর্তীর ছেলে। ডুমুরিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নুরুজ্জামান চানু বলেন, আজ সকালে মোটরসাইকেলচালক আতিয়ার রহমান আরোহীসহ তালা থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন। ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলটি ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল মোড়ে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস কাউন্টারের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দুজনকে চিকিৎসার জন্য তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসক দেবাশীষ চক্রবর্তীকে মৃত ঘোষণা করেন।
২৯ ডিসেম্বর সোমবার ময়মনসিংহ জেলা ভালুকা উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় লাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড’ কারখানায় হিন্দু যুবক বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) কে গুলি করে হত্যা করে নোমান মিয়া। নিহত বজেন্দ্র বিশ্বাস সিলেট সদর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পবিত্র বিশ্বাসের ছেলে। অভিযুক্ত নোমান মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার বালুটুরি বাজার এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে। তারা দুজনই ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। কারখানায় মোট ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত। ঘটনার সময় আনসার সদস্য নোমান মিয়া ও বজেন্দ্র বিশ্বাস একই কক্ষে পাশাপাশি বসে ছিলেন। এ সময় নিজের শটগান তাক করে নোমান বলেন, ‘দাদা গুলি করে দেই?’ এরপরই গুলি করে দেয়, গুলি বজেন্দ্র বিশ্বাসের বাম উরুতে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা তাকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩১ ডিসেম্বর বুধবার শরীয়তপুর জেলা ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় ব্যবসায়ী খোকন দাস কে ছুরিকাঘাতে জখম করে শরীরে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা করে মো. সোহাগ সহ তিন মুসলিম যুবক। পরে রাজধানী ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর খোকন চন্দ্র দাস মারা যান। ভুক্তভোগী খোকন দাস (৫০) ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার পরেশ দাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ওষুধ বিক্রেতা এবং পাশাপাশি একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলার কেউরভাঙ্গা বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন দাস। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় খোকন হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেন। তাঁরা হলেন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১)। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া আরেকজনের নাম জানতে পারে। ওই ব্যক্তি স্থানীয় শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)। আহত খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। যারা এই হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার বলেন, খোকন চন্দ্র দাস নামের এক রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।
ডিসেম্বর মাসের এই রির্পোটে দেখা যায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এই ধরনের নির্যাতন চলমান থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু শূণ্য হবে। হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাচ্ছি বাংলাদেশের অনেক হিন্দু দেশ ত্যাগ করতে চায়। কিন্তু ভারত সরকার সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরধার করায়, ভিসা জটিলতায়, ভারতে অবৈধ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের ভয়ে এবং বাংলাদেশে জমি বিক্রি করে সঠিক মূল্য না পাওয়ায় হিন্দুরা বাংলাদেশে এক রকম জিম্মি অবস্থায় পঁচে পঁচে মরতেছে।
সম্পাদক
ত্রিকালকন্ঠ