
পশ্চিমবঙ্গে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টায় জামাত-ই-ইসলামি। যার পিছনে রয়েছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এই পরিকল্পনার লক্ষ্যই হল রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব উসকে দেওয়া। যার প্রভাব হয় দীর্ঘমেয়াদি।
সম্প্রতি জামাত নেতা মহম্মদ নুরুল হুদার এক মন্তব্য সামনে আসতেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। যেখানে তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে সমর্থনের পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করতে শোনা যায়। এমনকি তিনি পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার আহ্বানও জানান। যার ভিত্তিতেই গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক দাবি করেছেন, এই মন্তব্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এক বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ বিশেষ।
এমনকি রিপোর্টে এও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জামাত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই আইএসআই মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলি পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা বেড়েছে। উল্লেখ্য, ওই গোয়েন্দা আধিকারিকের কথায়, পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি নতুন নয়। কয়েক বছর আগে মুর্শিদাবাদকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলাদা করার ছকও কষেছিল জামাতপন্থীরা। সেই ছক বানচাল করা হয়।
তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আইএসআই জামাতের একাধিক কট্টরপন্থী নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। আর তাদের পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে। যার উদ্দেশ্য একটাই, জম্মু-কাশ্মীরের মতো পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করা। গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী করার ছক আইএসআই-এর।
এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে আরও খবর, পশ্চিমবঙ্গের শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে চাইছে আইএসআই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি। বাংলাদেশ নির্বাচনে ভোটে জিতে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিসাধন আইএসআই-এর পছন্দ নয়।