
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গরু পাচার রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিনেই এই বিষয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যে গরু পাচার এবং বেআইনি পশু পাচার চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার থেকে আর কোনও অবস্থাতেই অবৈধ ‘গরুর হাট’ বা পশুর বাজার বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র বেআইনি পশুর হাটের উপর নিষেধাজ্ঞাই নয়, বৈধ গোরুর হাটগুলির উপরেও নিয়মিত কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কোথায়, কীভাবে এবং কাদের মধ্যে পশু কেনাবেচা হচ্ছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রশাসনের নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনকে এই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে যে, কড়াকড়ির নামে কোনওভাবেই যেন বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে না হয়। যে সমস্ত ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে আইনিভাবে পশু কেনাবেচা করেন এবং সাধারণ ক্রেতারা যাতে কোনওরকম অহেতুক প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে গরু পাচার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। বিশেষ করে রাজ্যের দীর্ঘ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে গরু পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশেষ জোর দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। গরু পাচারের রুটগুলি পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সর্বোচ্চ স্তরে সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই কড়া অবস্থানের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে এখন থেকে পুলিশকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। এর পাশাপাশি, যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও বেআইনিভাবে পশু পরিবহণ করা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনওভাবেই এই পাচার রোধের কাজে পুলিশের তরফে কোনওরকম ঢিলেমি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বড় এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে এই গরু পাচার ইস্যু নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে, এবং তা জাতীয় স্তরেও প্রভাব ফেলেছে। এবার ক্ষমতায় এসেই সেই বিতর্কিত এবং স্পর্শকাতর বিষয়টিতে রাশ টানতে প্রথম দিন থেকেই তৎপর হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি কার্যকলাপ এবং পাচার চক্রের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।