হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ ও চুল কেটে নির্যাতন করে দুই মুসলিম যুবক।

ছবি: ভুক্তভোগী বিধবা হিন্দু নারী।

বিধবা হিন্দু নারীকে(৪০) গণধর্ষণ করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে পাশবিক নির্যাতন করে দুই মুসলিম যুবক মো. শাহিন ও তার সহযোগী মো. হাসান। এমনকি গাছের সাথে বেঁধে চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে এই দুই মুসলিম যুবক।

সে সময় ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই ঘটনা ঘটে, ৩রা জানুয়ারি শনিবার রাতে ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের নদীপাড়ারে।

ভুক্তভোগী হিন্দু নারী ঝিনাইদহ জেলা কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খেদা পাড়া গ্রামের মৃত নিখিল ঘোষের স্ত্রী(৪০)।

পরে ওই ভুক্তভোগী হিন্দু নারী মো. শাহিন ও তার সহযোগী মো. হাসান কে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার ও ভুক্তভোগী নারী সূত্রে জানা গেছে, গত আড়াই বছর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের নদীপাড়ারে অভিযুক্ত মো. শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে দুইতলা বাড়িসহ ৩শতক জমি ২০ লাখ টাকায় কেনে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খেদা পাড়া গ্রামের মৃত নিখিল ঘোষের স্ত্রী।

তখনই ভুক্তভোগী হিন্দু নারী মো. শাহিনের কু-নজর পড়ে। তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাবও দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে হেনাস্তা করার পায়তারা চালিয়ে আসছিল মো. শাহিন।

এরই মধ্যে গত শনিবার সন্ধ্যায় বিধবা মহিলার গ্রাম থেকে দুই আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসে। সে সময় মো. শাহিন ও তার সহযোগী মো. হাসান তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরপর দুইজনে মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। এছাড়াও তারা ওই নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই আত্মীয়কে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। ধর্ষণের পর লোক জানাজানি করতে নিষেধ করলে মহিলা চিৎকার শুরু করে। ওই সময় মো. শাহিন ও তার সহযোগী মো. হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিধবা নারীকে গাছের সাথে বেঁধে চুল কেটে দিয়ে ভিডিও করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথমে ওই নারী স্বীকার করেনি। পরে আমরা ডাক্তারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি হেনস্থার শিকার হয়েছে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, আমরা ভুক্তভোগী মহিলাকে থানায় ডেকে এনে এজাহার নিয়েছি। তদন্ত করে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

One thought on “হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ ও চুল কেটে নির্যাতন করে দুই মুসলিম যুবক।

  1. বিচার চাই। জাতিসংঘের কাছে মানবাধিকার নেই।দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *