কৃষ্ণ রাজবংশীকে পিটিয়ে হত্যা, উদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ!

ছবি: নিহত কৃষ্ণ রাজবংশী।

৪০ হাজার টাকা না দেওয়ায় কৃষ্ণ রাজবংশীকে পিটিয়ে হত্যা করে, মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিম গং।

এই ঘটনা ঘটে, ৬মে বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার তরা বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে।

নিহত কৃষ্ণ রাজবংশী(৩৫) মানিকগঞ্জ জেলা পৌর এলাকার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া মহল্লার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জলাশয়ে জাল টানা ও মাছ ধরার কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তরা বাজারে ট্রাক থেকে মাছ নামানোর কাজও করতেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে আছে।

কৃষ্ণ রাজবংশীর স্ত্রী যমুনা রানী বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে তাঁর স্বামীকে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে কৃষ্ণকে ছাড়িয়ে নিতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।

পরে তিনি নিজেই বাজার কমিটির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মারধর করতে দেখেন।

কথার এই পর্যায়ে যমুনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এত ট্যাকা পামু কনে? ওই অফিসে গিয়্যা কান্নাকাটি করছি, তাগো (কমিটির লোকজন) পায়ে ধরে কানছি। তারপরও আমার স্বামীরে মারধর করছে। কত কইল্যাম, আপনারা তাঁরে পুলিশে দেন, তাও দিল না! ওরা আমার স্বামীরে মাইরা ফ্যানের লগে ঝুলাইয়া রাখছে, আমারে বিধবা করছে, আমার দুই পোলা–ম্যায়ারে এতিম করছে। আমি তাগো শাস্তি চাই।’

কৃষ্ণ রাজবংশীর মাসতুতো ভাই লালচান রাজবংশী বলেন, কৃষ্ণকে ছেড়ে দিতে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হন কৃষ্ণ। সকালে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে ও আরও একজনকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। পরে অন্যজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণকে কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাজার কমিটির কয়েকজন সদস্য মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের বাধার মুখে তাঁরা সরে যান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর থেকে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিমসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *