
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসকন মন্দিরে থেকে ১৪টি প্রতিমা, ২টি দানবাক্সসহ পূজার সরঞ্জাম লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এই ঘটনা ঘটে, ২৬ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার দিকে পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে পাঁচটি কক্ষের দরজার তালা ভেঙে চোর ভেতরে ঢুকে ১৪টি প্রতিমা চুরি করে নিয়ে যায়। রাত চারটার দিকে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল আরতি করতে প্রধান ফটকের সামনে যান। সে সময় তিনি মন্দিরের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। এরপর মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও প্রশাসন এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মন্দির থেকে ১৪টি প্রতিমা চুরি হয়েছে। এর মধ্যে পিতলের ৬টি ও বাকি ৮টি প্রতিমা পাথরের। এ ছাড়া মন্দির থেকে রুপার একটি পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, বালতি, পিতলের আসন, পিতলের গ্লাস, দুটি দানবাক্স থেকে নগদ টাকা ও এক পূজারির ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় চোর।
মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ বলেন, ‘আমাদের অপরাধটা কী। বারবার আমাদের ওপরই কেন এমন অত্যাচার হচ্ছে। নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না। যদি নিরাপদই মনে করতাম, তাহলে কেন আমাদের মন্দিরে চুরি-ডাকাতি হবে।’
শিল্পা রানী মালাকার বলেন, ‘আমি গতকাল মাধবপুর ছিলাম। আইসা দেখি, আমার কক্ষের তালা ভেঙে নগদ ২০ হাজার টাকা; হাতের, গলার ও কানের স্বার্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। আমার স্বামী-সন্তান কেউ নেই। আমি প্রভুর সেবা করি।’
মন্দিরের সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার মন্দিরের প্রতিমাগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিশুদ্ধ পানির মোটর নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনায় চরমভাবে উদ্বিগ্ন।’
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, রাত দুইটা থেকে তিনটার দিকে তালা ভেঙে মন্দিরের দুটি দানবাক্সসহ মূর্তি নিয়েছে গেছে চোর। স্থানীয় কোনো ছিঁচকে চোর হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার মূল উদ্দেশ্য দানবাক্স ছিল। মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সচল আছে একটি। একটি ক্যামেরায় একজন চোরকে দেখা গেছে। গায়ে কম্বল বা কাপড় মোড়ানো থাকায় চেনা যায়নি।
পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ বলেন, মন্দিরে চুরি হওয়া মূর্তিগুলোর মধ্যে ৬টি পিতলের ও ৮টি পাথরের ছিল। গায়ে চাদর মোড়ানো অবস্থায় গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে এসব চুরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের একাধিক দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।