চাঁদা না পাওয়ায় ব্যবসায়ী নিদর্শন বড়ুয়ার দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে।

ছবি: পুড়ে যাওয়া নিদর্শন বড়ুয়ার দোকান।

দাবীকৃত চাঁদা না পাওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিদর্শন বড়ুয়ার মুদির দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে।

১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আঁধারমানিক এলাকার অশ্বিনী ডাক্তারের ঘাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিদর্শন বড়ুয়া (৬৫) একই গ্রামের মনিন্দ ভান্তের বাড়ির মৃত উল্লাস বড়ুয়ার ছেলে। বাড়ি হতে আধা কিলোমিটার দূরত্বে তার মুদির দোকান।

নিদর্শন বড়ুয়া জানান, তিনি বিগত ৩ বছর ধরে একই স্থানে মুদির দোকান করছেন। এরপূর্বে তিনশত গজ দূরে ১২ বছর মুদির দোকান করেছিলেন। এই দীর্ঘ ১৫ বছর তার কোন সমস্যা হয় নি। গত মাসখানিক পূর্বে তার মোবাইলে একটা অপরিচিত নম্বর হতে ফোন আসে। তারা তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। তার একমাত্র ছেলে নারায়ণগঞ্জে জাইকাতে চাকরি করেন। তার অনেক টাকা। এজন্য তাদের খরচাপাতি জন্য তাদের চাঁদা দিতে হবে। এভাবে বারংবার ফোন করে। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৮০ হাজার, ৫০ হাজার সর্বশেষ ২০ হাজার টাকায় নেমে আসে চাঁদার দাবী। চাঁদা দাবী করে যে নম্বর গুলো হতে ফোন এসেছে সেগুলো অ্যাপের নম্বর। সেগুলোতে কল যায় না। এরমধ্যে গত ৫ অক্টোবর একটি মোটরসাইকেল যোগে হেলমেট পরিহিত ২০-২২ বছরের ৩জন যুবক এসে তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি করেন। এতে গুলি তার গায়ে না লাগলেও তার দোকানের ফার্নিসারের গ্লাস ভেঙে যায়। দোকানে অদূরে গিয়ে আরেকটি গুলি বর্ষণ করে চলে যায়। যাওয়া সময় ঘর-বাড়ি পুড়ে দেওয়া ও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। আমি থানায় এই বিষয়ে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত আসেন। শুক্রবার সকালে দোকান পুড়ে যাওয়া সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আরো বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু মানুষ। আমরা শান্তি চাই, নিরাপত্তা চাই। আমি কাউকে চিনি না। কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে তার দোকান পুড়ে গেছে। কিভাবে আগুন লেগেছে জানি না। তবে, শুনেছি মাসখানেক পূর্বে তার কাছ কে বা কারা চাঁদা চেয়েছিল। তারা হুমকিও দিয়েছিল। ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাচ্ছি। এই কারনে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানি শিকার না হয়।

এই বিষয়ে পূর্বগুজরা তদন্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীপ্ত দাশ রায় জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুড়ে যাওয়া দোকানের সাথে চাঁদাবাজির ঘটনার সম্পৃক্ততার কোন তথ্য আমরা এখনও পায় নি। তবে, তার অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *