মুসলিম যুবক কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হিন্দু গৃহবধূ এখন গ্রাম ছাড়া।

ছবি: ধর্ষণ।
ছবি: ধর্ষণ।

দুই দফায় মুসলিম যুবক কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হিন্দু গৃহবধূ(৩৮)। গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা করে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবার। ধর্ষকদের পরিবারের হুমকিতে ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে। শিশু-কিশোর বয়সী দুই ছেলে নিয়ে ওই নারীর স্বামীও বাড়িতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে, বরগুনা জেলা আমতলী সদর উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে।

ধর্ষক সাইফুল ইসলাম হাওলাদার (২৫) একই গ্রামেরই নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে। অপর যুবক মো. ইমরান হাওলাদার (৩০) শহিদ হাওলাদারের ছেলে।

জানাযায়, ভুক্তভোগী হিন্দু গৃহবধূর স্বামী পেশায় কৃষক। এ দম্পতির শিশু-কিশোর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে। ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো মুসলিম যুবকেরা একই গ্রামের বাসিন্দা।

প্রথম দফায় গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন হিন্দু গৃহবধূ। সেদিন তাঁর স্বামীর সঙ্গে ছেলেরা বাজারে গিয়েছিল। আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগী বলেন, ‘বাড়িতে আমাকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে সাইফুল ও ইমরান। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে নির্যাতন চালায়। তাদের ভয়ে ও লোকলজ্জায় কাউকে এ ঘটনা জানাইনি।’

এরপর ২৯ অক্টোবর দুপুরে স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর দুই ছেলেই জমির কাজে যায়। এই সুযোগে সাইফুল ও ইমরান বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা পালাক্রমে গণধর্ষণ করে ওই নারীকে। এবার সেই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইমরানের ছোট ভাই ইমরাজ হাওলাদার (২২)। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে যায়, কাউকে ঘটনা জানালে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেবে। এমনকি হত্যারও হুমকি দেয়।
কাঁদতে কাঁদতে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমি এখন বাড়ি যেতে ভয় পাই। ওরা খুব খারাপ লোক। আমি মামলার পর থেকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’

এই ঘটনায় পরে ১লা নভেম্বর আমতলী থানায় ধর্ষক সাইফুল, ইমরান ও ইমরাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী হিন্দু নারী। সেই রাতেই পুলিশ দুই নম্বর আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগী হিন্দু নারীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তিন নম্বর আসামি ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারী ইমরাজকে। তবে বুধবারই আমতলীর আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় দুই নম্বর আসামি ইমরান। সে এলাকায় ফিরেই পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়াচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার নারীর ১৬ বছর বয়সী ছেলের ভাষ্য, ‘মোরা এহন ব্যামালা ডরের মধ্যে আছি। মোর মার লগে যারা এইরহম খারাপ কাম করছে, হেগো ফাঁসি চাই।’

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘দুই পোলা লইয়া এহন বাড়িতে থাকতেও ডর লাগে। সাইফুলের মা পিয়ারা বেগম, বউ হামিদা বেগম ও ইমরানের মা বিউটি বেগম মোগো বাড়ি ছাইর‍্যা যাইতে কয়। ওরা কইছে, তোরা নমোরা (হিন্দু) দ্যাশে থাকতে পারবি না।’

বক্তব্য জানতে বুধবার বিকেলে মামলার আসামি সাইফুল ও ইমরান-ইমরাজের বাড়িতে গেলে তাদের পরিবারের কোনো সদস্যেরই দেখা মেলেনি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তারা বাড়িতে থাকে না। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসে।

এই মামলাটি তদন্ত করছেন আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মামলার পর ইমরান ও ইমরাজকে গ্রেপ্তার করে তারা জেলহাজতে পাঠান। অন্য আসামিকেও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তবে বুধবার ইমরান জামিনে ছাড়া পেয়েছে বলে শুনেছেন।

ওই থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আসামিপক্ষের স্বজনেরা ওই পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে তাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *