ঝনিক দাস কে কুপিয়ে অটোরিক্সা ছিনতাই।

ছবি: আহত ঝনিক দাস(১৪)।

ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক ঝনিক দাস(১৪) কে কুপিয়ে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।

এই ঘটনা ঘটে, ৮জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম হাজীপাড়ায়।

ভুক্তভোগী ঝনিক দাস(১৪) সুনামগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের জিতেন দাস ও আরতী দাসের ছেলে। সে শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। দুই ভাই, বাবা ও মা নিয়ে তাদের সংসার। বড় ভাই যীশু দাস রিক্সা চালাক ও মা বিভিন্ন বাড়িতে গৃহ সহায়িকার কাজ করেন। ঝনিকের দিনের রোজগারের ৭০০ টাকা ও অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

জানা যায়, দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে দুইজন যাত্রী নিয়ে পশ্চিম হাজীপাড়ায় যান ঝনিক। সেখানে যাওয়ার পর অটোরিক্সার যাত্রীরা বাড়ি থেকে একটি বস্তা নিয়ে এসে আবারও আলফাত স্কয়ারে যাবে বলে অপেক্ষা করতে বলে। কিছুক্ষণ পর ওই যাত্রীরা ছুরি দেখিয়ে ঝনিকের সঙ্গে থাকা সব টাকা দিতে বলে। ভয়ে ঝনিক তার উপার্জিত টাকা দিয়ে দেয় এবং বলে আমার কাছে যা আছে সব নিয়ে যাও, আমাকে মেরো না। ছিনতাইকারীরা এরপরও বলে, আর কিছু আছে নি? ঝনিকের ‘না’ শোনার পর ছিনতাইকারীরা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়। পাশের দোকানের এক ব্যক্তি আহত ঝনিককে দেখে শহরের বাঁধনপাড়ায় তার বাসয় পৌঁছে দেন। এরপর পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশী মিলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঝনিকের বড় ভাই যীশু দাস বলেন, গলায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঝনিকের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আমাদের সাথে কারও কোনো শত্রুতা নেই এবং এলাকায় নতুন হওয়ায় কাউকে চিনতো না ঝনিক।

প্রতিবেশী দীপক চক্রবর্তী ও প্রতিমা চক্রবর্তী বলেন, সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়। গলায় গুরুতর আঘাতের কারণে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে, ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিল না ঝনিক। পরিবারটি দরিদ্র, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এসময় ঝনিকের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সকলকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এরা।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ঘটনাটি পুলিশ কে মৌখিক জানানো হয়েছে। মামলা হয় নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *