
‘মানসিক ভারসম্যহীন’ হিন্দু নারীর মৃত্যুর পর তার লাশ সৎকার নিয়ে তৈরী হয় বির্তক। স্থানীয় মুসলিমরা দাবি করে ‘মানসিক ভারসম্যহীন’ ওই হিন্দু নারী মারা যাওয়ার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাই ওই নারীর লাশ মুসলিম রীতিতে দাফন করা হয়েছে।
এই ঘটনা ঘটে, ৬ অক্টোবর সোমবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলা কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বাঁশাটি বাজারে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বাঁশাটি বাজারে বসবাস করে আসছিলেন। স্থানীয়রা তাকে ‘পিসি’ নামে ডাকতেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর বাজারের এক পক্ষ দাবি করে, ওই মহিলা জীবিত অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাই তাকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী গোসল দিয়ে স্থানীয় বাজারের সরকারি জায়গায় কবর দেওয়া হবে।
কিন্তু অন্যপক্ষটি ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার ইসলাম গ্রহণের কোনো প্রমাণ নেই। তারা অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই সনাতন নারীকে মুসলিম সাজিয়ে কবর দিয়ে পরবর্তীতে মাজার বানানোর পরিকল্পনা করছে।
এদিকে বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন ফ্রন্ট কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সদস্য আনন্দ বসাক বলেন, ‘পিসি হরিনাম ও কৃষ্ণ কৃষ্ণ জপ করতেন। তিনি একজন হিন্দু মহিলা। আমরা তার দেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সৎকার করতে চাই। কিন্তু স্থানীয় এক পক্ষ মরদেহ নিতে দেয়নি।’
তবে কবর দেওয়ার পক্ষে থাকা লোকজনের দাবি, পিসি মৃত্যুর আগে কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাই মুসলিম রীতিতে তাকে কবর দেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাঁশাটি ছোবহে জাহানিয়া কাসিমুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি তরিকুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির জ্ঞানসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। তাই তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার সুযোগও নেই।
বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার। তিনি সেখানে গিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শর্তসাপেক্ষে ওই নারীর মরদেহ কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, অধিকাংশ মানুষ কবর দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তবে আমি শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছি—কবর দেওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণ বা মাজার তৈরি করা যাবে না।