আদুরী রানী কে অপহরণ করে শিপুল মিয়া, ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি।

ছবি: অপহরণের শিকার আদুরী রানী।

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় রাস্তা থেকে আদুরী রানী কে অপহরণ করে নিয়ে যায় শিপুল মিয়া গং। অপহরণের প্রায় ১৭ দিনে পার হলেও এখন উদ্ধার হয় নাই আদুরী রানী। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন তার বাবা-মাসহ পুরো পরিবার।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা সদরের দাড়িয়াপুর মন্দিরের রাস্তার সামন থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আদুরী রানী কে(১৫)।

অপহরণের শিকার আদুরী রানী(১৫) গাইবান্ধা জেলা সদর উপজেলার ঘাঘোয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারা পালপাড়া গ্রামের সুবল চন্দ্র দাসের মেয়ে। আদুরী ঘাগোয়া রুপার বাজার মাতৃভাষা মডেল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

অপহরণের ঘটনায় ১লা অক্টোবর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আদুরীর বাবা সুবল চন্দ্র দাস।

জানাযায়, দীর্ঘদিন থেকে শিপুল মিয়া (১৯) নামের এক মুসলিম যুবক স্কুলে যাতায়াতের সময় আদুরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এরপর শারদীয় দুর্গাপূজা দেখতে গেলে দাড়িয়াপুর মন্দিরের রাস্তার সামন থেকে আদুরীকে জোর করে স্থানীয় বখাটে কয়েকজন অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন নিখোঁজের পর আদুরীকে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পরও না পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ করেন সুবল চন্দ্র দাস।

আদুরীর বাবা সুবল চন্দ্র দাস বলেন, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। আজ ১৭ দিন হলেও মেয়েটিকে খুঁজে পাইনি। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।

আদুরীর মা ধলি রানী বলেন, মেয়ের জন্য খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। সারাদিন মেয়ের কথা মনে করি। থানায় অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত মেয়েকে বের করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে শিপুল মিয়াসহ পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পলাতক।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, মেয়েটিকে বের করার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *